
এআই বাবল কি ফুটে গেলো? এক দিনে উধাও ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার
এক দিনে Nasdaq 100 থেকে উধাও ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, বেশীর ভাগই এআই কোম্পানি। এআই বাবল কি ফুটে গেলো, আর আমাদের মতো ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সারদের এতে কি আসে যায়?
বৃহস্পতিবার এক দিনে Nasdaq 100 থেকে উধাও হয়ে গেছে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ইতিহাসে এক দিনে এতো বড় লস আর কখনো হয় নি। এর মধ্যে বেশীর ভাগই ছিলো এআই কোম্পানি। চিপ মেকার, ক্লাউড, ডাটা সেন্টার। যারা গত দুই বছর শুধু উপরেই উঠেছে। এখন সবার মুখে একটাই প্রশ্ন। "এআই বাবল কি ফুটে গেলো?"
আজকের ব্লগে এটা নিয়েই কথা বলবো। কি হলো, কেনো হলো, আর আমাদের মতো ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সারদের এতে কি আসে যায়।
বৃহস্পতিবার আসলে কি হয়েছিলো?
৫ নভেম্বর ছিলো আমেরিকার শেয়ার বাজারের জন্য একটা কালো দিন।
- Nasdaq 100ঃ এক দিনে পড়েছে ৬.৩%।
- চিপ কোম্পানিঃ সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স পড়েছে প্রায় ১২%। AMD একাই পড়েছে প্রায় ১৫%, Micron প্রায় ১২%।
- পুরো মার্কেটঃ আমেরিকার সব শেয়ার মিলিয়ে উধাও প্রায় ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার।
- এশিয়াঃ পরদিন কোরিয়া আর জাপানের মার্কেট পড়েছে প্রায় ৬% করে। কোরিয়াতে তো সার্কিট ব্রেকার দিয়ে ট্রেডিং বন্ধ করতে হয়েছে।
Nasdaq এখন অফিশিয়ালি "কারেকশন" এ। মানে সাম্প্রতিক হাই থেকে ১০% এর বেশী নিচে।
কেনো হলো?
একটা কারনে না, কয়েকটা কারন একসাথে।
- প্রফিট তুলে নেওয়াঃ গত দুই বছর যে কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশী উঠেছে, বড় ইনভেস্টররা সেগুলোই আগে বিক্রি করেছেন। লাভ টা পকেটে ঢুকিয়ে নেওয়া।
- রুলস এর ভয়ঃ আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনের পর ইনভেস্টররা ভয় পাচ্ছেন, এআই ডাটা সেন্টার নিয়ে নতুন নিয়ম কানুন আসতে পারে। ডাটা সেন্টার বানানো কঠিন হলে চিপের চাহিদা কমবে।
- প্যানিকঃ সাধারন ইনভেস্টররাও দলে দলে বিক্রি করেছেন। ২০২০ সালের কোভিডের পর এক দিনে এতো বিক্রি আর দেখা যায় নি।
আর যখন সবাই একসাথে বের হওয়ার জন্য দৌড় দেয়, দরজা তখন ছোট হয়ে যায়।
এআই বাবল কি ফুটে গেলো?
এবার আসি আসল প্রশ্নে।
যারা বাবল জিনিসটা জানেন না তাদের জন্য, কোন কিছুর দাম যখন তার আসল মূল্যের চেয়ে অনেক বেশী উঠে যায়, শুধু সবাই কিনছে বলে, তখন সেটাকে বাবল বলে। আর বাবল একসময় ফুটবেই।
সবার মাথায় এখন ২০০০ সালের ডট কম ক্র্যাশ। তখন ইন্টারনেট নিয়ে এমন হাইপ ছিলো যে নামের শেষে ".com" লাগালেই শেয়ারের দাম বেড়ে যেতো। তারপর একদিন সব ভেঙ্গে পরলো। অনেক কোম্পানি হাওয়া হয়ে গেলো।
এবারও কি সেটাই হচ্ছে? দুই পক্ষেরই যুক্তি আছে।
যারা বলছেন বাবলঃ এআই কোম্পানিগুলো ডাটা সেন্টারে যে পরিমান টাকা ঢালছে, সেই টাকা ফেরত আসবে কিভাবে, কেউ পরিস্কার করে বলতে পারছে না। খরচ আকাশে, ইনকাম এখনও মাটিতে।
যারা বলছেন কারেকশনঃ ডট কম এর সময় অনেক কোম্পানির কোন প্রোডাক্টই ছিলো না, শুধু ওয়েবসাইট আর স্বপ্ন। এবার Nvidia, AMD এর মতো কোম্পানিগুলো সত্যি সত্যি চিপ বিক্রি করছে, টাকা কামাচ্ছে। আর দুই বছর টানা ওঠার পর একটা বড় পতন অস্বাভাবিক কিছু না।
শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ডট কম ক্র্যাশে ইন্টারনেট মরে যায় নি। মরেছিলো হাইপ। Amazon কিন্তু ওই ক্র্যাশের পরেও টিকে ছিলো, আর পরে আরো বড় হয়েছে। এআই এর ক্ষেত্রেও মনে হয় সেটাই হবে। হাইপ কমবে, টেকনোলজি থাকবে।
আমাদের কি আসে যায়?
এখন বলতে পারেন, ভাই, আমি তো Nasdaq এ শেয়ার কিনি না। আমার কি?
আসে যায়। একটু ঘুরিয়ে।
- এআই টুলের দামঃ এআই কোম্পানিগুলো এতোদিন ইনভেস্টরের টাকায় সস্তায় সার্ভিস দিচ্ছিলো। টাকা কমলে ফ্রি টায়ার আর সস্তা প্ল্যানগুলোতে কোপ পরতে পারে।
- স্টার্টআপ ফান্ডিংঃ যারা এআই নিয়ে স্টার্টআপ বা SaaS বানাচ্ছেন, ইনভেস্টর এখন অনেক বেশী হিসাব করে টাকা দিবে। "এআই" শব্দ টা বললেই টাকা পাওয়ার দিন শেষ।
- ক্লায়েন্টের বাজেটঃ বাইরের ক্লায়েন্টরা যখন ভয়ে থাকে, প্রথমে বাজেট কাটে। ফ্রিল্যান্সারদের কাজের রেট আর কাজের সংখ্যায় এর প্রভাব পরতে পারে।
- ডলারের মার্কেটঃ আমাদের অনেকের ইনকাম ডলারে। আমেরিকার মার্কেট নড়লে, আমাদের প্রজেক্টও নড়ে।
তবে একটা ভালো দিকও আছে। হাইপ কমলে আসল কাজের দাম বাড়ে। যারা শুধু "এআই এক্সপার্ট" ট্যাগ লাগিয়ে বসে ছিলো, তারা ছিটকে পরবে। আর যারা এআই দিয়ে সত্যিকারের সমস্যা সলভ করতে পারে, তাদের চাহিদা থাকবেই।
উপসংহারঃ
এক দিনে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হওয়া অবশ্যই বড় ঘটনা। কিন্তু এক দিনের পতন দিয়ে পুরো গল্প বলা যায় না। পরদিন সকালেই Nasdaq 100 কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাবল ফুটুক আর না ফুটুক, আমার সাজেশন একটাই। হাইপের পিছনে না দৌড়ে স্কিলের পিছনে দৌড়ান। হাইপ আসে যায়, স্কিল ইজ দ্য কিং।



এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক!