চ্যাটজিপিটির সাবস্ক্রিপশনে ফ্রি এপিআই ক্রেডিট, ভাইব কোডারদের জন্য ঈদ নাকি ফাঁদ?

চ্যাটজিপিটির সাবস্ক্রিপশনে ফ্রি এপিআই ক্রেডিট, ভাইব কোডারদের জন্য ঈদ নাকি ফাঁদ?

চ্যাটজিপিটি Pro আর Business ইউজাররা এখন মাসে ৫০০ ডলার পর্যন্ত এপিআই ক্রেডিট পাচ্ছেন। ভাইব কোডারদের জন্য এটা ঈদের সালামি নাকি নতুন ফাঁদ?

ফ্রি লাঞ্চ বলে কিছু নাই। এই কথাটা আমি বহুবার বলেছি, আজকেও বলবো। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু অফার আসে যেগুলো দেখে মনে হয়, এবার মনে হয় সত্যিই লাঞ্চ টা ফ্রি।

গত ২৮ অক্টোবর ওপেনএআই ঘোষণা দিয়েছে, চ্যাটজিপিটি Pro আর Business সাবস্ক্রাইবাররা প্রতি মাসে ৫০০ ডলার পর্যন্ত এপিআই ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারবেন। মানে যে সাবস্ক্রিপশনের টাকা দিয়ে আপনি চ্যাটজিপিটি চালাচ্ছেন, সেই সাবস্ক্রিপশনের সাথেই এখন এপিআই চালানোর টাকাও দিয়ে দিচ্ছে।

ভাইব কোডারদের জন্য এটা ঈদের সালামি নাকি নতুন কোন ফাঁদ, সেটা নিয়েই আজকের ব্লগ লিখতে বসা।

যারা এপিআই ক্রেডিট জিনিসটা জানেন না তাদের জন্য, চ্যাটজিপিটি তে আমরা যে চ্যাট করি সেটা একটা প্রোডাক্ট। আর আপনি যখন নিজের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে ওপেনএআই এর মডেল ইউজ করতে চান, তখন এপিআই দিয়ে কানেক্ট করতে হয়। প্রতিটা রিকোয়েস্টের জন্য টোকেন হিসেবে আলাদা বিল হয়। এতোদিন এই দুইটা বিল ছিলো সম্পুর্ন আলাদা।

কে কতো পাবেন?

  • Pro ইউজারঃ প্ল্যানের টায়ার অনুযায়ী মাসে ১০০, ২০০ অথবা ৫০০ ডলার।
  • Business স্ট্যান্ডার্ড সিটঃ প্রতি সিটে মাসে ২০ ডলার।
  • Business প্রিমিয়াম সিটঃ প্রতি সিটে মাসে ১০০ ডলার।
  • ওয়ার্কস্পেস লিমিটঃ Business ওয়ার্কস্পেসে যতো সিটই থাকুক, মাসে ম্যাক্সিমাম ৫০০ ডলার।

Plus ইউজারদের কথা ঘোষণায় নাই। সো আপাতত ধরে নিন, Plus এ এই সুবিধা নাই।

কিভাবে ক্লেইম করবেনঃ

প্রসেস টা সিমপল।

১. চ্যাটজিপিটির সেটিংস এ বিলিং পেজে যান। এলিজিবল হলে সেখানে ক্রেডিট ক্লেইম করার অপশন দেখাবে।

২. ক্রেডিট ক্লেইম করুন।

৩. এরপর চ্যাটজিপিটি বা Codex এর ভিতরে OpenAI Developers প্লাগিন দিয়ে একটা এপিআই কী (API key) বানিয়ে নিন।

দ্যাটস ইট। এবার সেই কী দিয়ে নিজের প্রজেক্টে এপিআই কল করতে পারবেন।

বাংলাদেশের ভাইব কোডারদের জন্য আসল প্লাস পয়েন্টঃ

এই অফারের সবচেয়ে বড় এডভান্টেজ ৫০০ ডলার না। আসল কথা হল, আলাদা করে এপিআই এর বিল দিতে হবে না।

বাংলাদেশ থেকে এপিআই এর বিল দেওয়া কি জিনিস, যারা দিয়েছেন তারা জানেন। ডুয়াল কারেন্সি কার্ড লাগবে, কার্ডের লিমিট, এন্ডোর্সমেন্ট, ব্যাংকের হাজারটা নিয়ম। তারপর মাসের মাঝখানে কার্ড ডিক্লাইন হয়ে প্রজেক্ট বন্ধ। আ কমন সিনারিও।

এখন যিনি অলরেডি চ্যাটজিপিটি সাবস্ক্রিপশনের বিল দিচ্ছেন, তার এপিআই এর টাকা টা সেই সাবস্ক্রিপশনের ভিতরেই চলে আসছে। একবার পেমেন্ট, দুইটা সুবিধা।

ধরুন আপনি একটা সাইড প্রজেক্ট বানাচ্ছেন। একটা ছোট্ট এআই চ্যাটবট, একটা কন্টেন্ট জেনারেটর, অথবা ক্লায়েন্টের জন্য একটা প্রুফ অফ কনসেপ্ট। আগে শুধু টেস্ট করার জন্যও এপিআই তে ডলার লোড করতে হতো। এখন সেই টেস্টিং এর খরচ টা ফ্রি তে কভার হয়ে যাচ্ছে। খুব সহজ মনে হচ্ছে না?

ফাঁদ টা কোথায়?

তবে হ্যা, ফ্রি জিনিসের পিছনে সবসময় কিছু শর্ত থাকে। এখানেও আছে।

  • সবার জন্য নাঃ Pro এর দাম এমনিতেই অনেক। Business নিতে হলেও সিট কিনতে হয়। সো যিনি মাসে ২০ ডলারের Plus চালান, তার জন্য এই অফার জাস্ট এনাদার নিউজ।
  • মাস শেষে গায়েবঃ রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন মাসে ক্রেডিট খরচ না করলে সেটা পরের মাসে যোগ হয় না। ইউজ ইট অর লুজ ইট।
  • লিমিট বাড়ে নাঃ এই ক্রেডিট শুধু এপিআই প্ল্যাটফর্মের জন্য। চ্যাটজিপিটি বা Codex এর ইউজেজ লিমিট এতে বাড়বে না।
  • একাউন্টের প্যাচঃ যে লগিন দিয়ে সাবস্ক্রিপশন, সেই একাউন্টই এপিআই অর্গানাইজেশনের মালিক হতে হবে বলে কিছু ইউজার জানিয়েছেন। কোম্পানির এক একাউন্ট, পার্সোনাল আরেক একাউন্ট হলে একটু প্যারা খেতে পারেন।

শেষের কয়েকটা পয়েন্ট ওপেনএআই এর অফিশিয়াল ঘোষণায় স্পস্ট করে বলা নাই, ইউজারদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে। সো ক্লেইম করার আগে বিলিং পেজে একবার চেক করে নিবেন।

ওপেনএআই কেনো এতো দিচ্ছে?

এখন বলতে পারেন, এতো টাকা ফ্রি তে দিয়ে ওপেনএআই এর লাভ কি? ভাই, লাভ আছে বলেই দিচ্ছে।

আমার কাছে মনে হয়, এটা ইউজার গোছানোর খেলা। এপিআই এর মার্কেটে কম্পিটিশন এখন অনেক। ক্লড আছে, জেমিনি আছে, ওপেন সোর্স মডেল আছে, ওপেনরাউটার দিয়ে যখন খুশি মডেল সুইচ করা যায়। এই অবস্থায় একজন ডেভেলপার কে নিজের প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় কি? ফ্রি ক্রেডিট দিয়ে অভ্যাস করানো।

আজকে আপনি ফ্রি ক্রেডিট দিয়ে প্রজেক্ট বানালেন। কোড লিখলেন ওপেনএআই এর এসডিকে দিয়ে, প্রম্পট টিউন করলেন ওদের মডেলের জন্য। কালকে প্রজেক্ট টা চলতে শুরু করলে, ইউজার বাড়লে, ৫০০ ডলারে আর হবে না। তখন বাকি বিল টা কে দিবে? আপনি। আর ততদিনে অন্য প্ল্যাটফর্মে সুইচ করাটা আর অতো সহজ থাকবে না।

পাড়ার একটাই দোকান যেমন প্রথমে বাকিতে দেয়, তারপর আপনি ওই দোকান ছাড়া আর কোথাও যান না। ব্যাপারটা অনেকটা সেরকম।

তাহলে কি করবেন?

আমি বলছি না যে এই অফার নিবেন না। নেওয়াই উচিৎ। আমি এটাই বলতে চাচ্ছি যে, স্মার্টলি নিন।

  • টেস্টিং এর জন্য ইউজ করুনঃ আইডিয়া ভ্যালিডেট করুন, প্রোটোটাইপ বানান, ক্লায়েন্টকে ডেমো দেখান। এর জন্য এই ক্রেডিট পারফেক্ট।
  • কোড টা ফ্লেক্সিবল রাখুনঃ মডেল কল করার অংশ টা আলাদা করে রাখুন, যাতে পরে চাইলে অন্য প্রোভাইডারে সুইচ করতে পারেন। এক যায়গায় আঠার মতো লেগে থাকবেন না।
  • খরচের হিসাব রাখুনঃ ক্রেডিট দিয়ে কতো টোকেন খরচ হচ্ছে সেটা দেখুন। ফ্রি ক্রেডিট শেষ হলে আসল বিল কতো আসবে, সেটা আগে থেকেই জানা থাকা ভালো।
  • শুধু অফারের জন্য Pro কিনবেন নাঃ যদি এমনিতেই Pro দরকার হয়, তাহলে এটা বোনাস। কিন্তু ক্রেডিটের লোভে সাবস্ক্রিপশন আপগ্রেড করলে হিসাব টা উল্টা হয়ে যেতে পারে।

উপসংহারঃ

ঈদ নাকি ফাঁদ? সত্যি বলতে, দুইটাই।

যিনি অলরেডি Pro বা Business ইউজ করছেন, তার জন্য এটা ঈদের সালামি। নিয়ে নিন, সাইড প্রজেক্ট বানান, নতুন কিছু ট্রাই করুন। কিন্তু মাথায় রাখবেন, এই সালামি দিয়ে ওপেনএআই আপনাকে নিজের দোকানের রেগুলার কাস্টমার বানাতে চাচ্ছে।

ফ্রি ক্রেডিট দিয়ে শুরু করুন, কিন্তু নিজের প্রজেক্টের চাবি টা নিজের হাতেই রাখুন।

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

    এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনার হোক!

    আরও পড়ুন

    এআই এর সব পোস্ট

    এআই কোড লিখছে, আপনি কফি খেতে গেলেন, এসে দেখেন ম্যাক ঘুমিয়ে পরেছে?

    ৫ মিনিট

    এআই এজেন্ট কাজ করছে আর ম্যাক ঘুমিয়ে পরছে? ভাইব কোডারদের জন্য ম্যাকের মেনু বার অ্যাপ Staylit, এক ক্লিকে ম্যাক জাগিয়ে রাখুন।

    এআই কোড লিখছে, আপনি কফি খেতে গেলেন, এসে দেখেন ম্যাক ঘুমিয়ে পরেছে?

    মাইক্রোসফটও ৬০ হাজার মানুষকে বললো "চলে যান", আপনার প্ল্যান বি কি?

    ৫ মিনিট

    মাইক্রোসফট প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে বাইআউট অফার দিয়েছে। বড় কোম্পানিতেও চাকরি আর নিরাপদ না, তাহলে আপনার প্ল্যান বি কি হওয়া উচিৎ?

    মাইক্রোসফটও ৬০ হাজার মানুষকে বললো "চলে যান", আপনার প্ল্যান বি কি?

    চ্যাটজিপিটি তে এড চলে এসেছে বাংলাদেশেও, এবার কি হবে?

    ৭ মিনিট

    ২১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশেও চ্যাটজিপিটি এড চালু। ফ্রি ইউজারদের জন্য এর মানে কি, ভরসা কতটুকু, আর মার্কেটারদের জন্য সুযোগ কোথায়।

    চ্যাটজিপিটি তে এড চলে এসেছে বাংলাদেশেও, এবার কি হবে?

    ট্যাগ